গোপালপুরে চালককে হত্যা করে সিএনজি ছিনতাই চক্রের ৬ জন আটক সিএনজি উদ্ধার

 

 

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি  কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে চালককে হত্যা করে সিএনজি ছিনতাই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় জনকে আটক ও ছিনতাইকৃত সিএনজিটি উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।
র‌্যাব-১২ এর তিন নম্বর কোম্পানীর অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস এ তথ্য জানান। আটকৃতরা হচ্ছেন, গোপালপুর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের আছর আলীর স্ত্রী সাহিদা বেগম (৩৫), চকশিমলা পাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আনিছুর রহমান (২৫), বর্ণি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে আপন (৩৫), বাইশকাইল গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫), টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিন কলেজপাড়ার আবু হানিফের ছেলে দুলাল মিয়া (৪৭) এবং নাগরপুর উপজেলার বনগ্রামের সাহেব আলী মোল্লার ছেলে সুমন মিয়া (২৩)।
র‌্যাব সূত্র জানায়, গত ১৫ জুন রাতে গোপালপুর উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম পুলিশ বক্সের কাছে কালিহাতী উপজেলার সাতকুড়িয়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে সিএনজি চালক মামুনের লাশ পাওয়া যায়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করে তার অটোরিক্সা নিয়ে যায়। নিহত মামুনের স্ত্রী বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় মামলা করেন। উক্ত সংবাদ পাওয়ার পর র‌্যাবের আভিযানিক দল গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারেন ঘটনার পূর্বে গত ১৪ জুন রাত ১১টায় নিহত সিএনজি চালককে গোপালপুরের বীলডগা গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে সুমন (৩৫) ওরফে পাইলট এবং তার কয়েকজন সঙ্গী গোপালপুরের চরপাড়ার আপনের চায়ের দোকানে চা পান করে। পরে র‌্যাব দোকানদার আপনকে গ্রেফতার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আপন র‌্যাবকে জানায়, ১৪জুন রাত অনুমান ১টায় সিএনজি ছিনতাই করার জন্য তার চায়ের দোকানে বসে সুমন (৩৫), সাহিদা বেগম (৩৫), আনিছুর রহমান (২৫), আমিনুল ইসলাম (৩২) চা পান করে এবং শলাপরামর্শ করে সিএনজি চালককে নবগ্রামের দিকে নিয়ে চলে যায়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাহিদা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। সাহিদা র‌্যাবকে জানায়, সুমনের সাথে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। সেও উক্ত অপরাধ চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা সিএনজি চালক মামুনকে হত্যা করে তার সিএনজি চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুমন, অপু ও সাহিদা এলেঙ্গা থেকে মামুনের সিএনজি ৫শ’ টাকায় ভাড়া করে আপনের চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। সুমন অটোরিক্সা চালক মামুন এবং সাহিদাকে চায়ের দোকানে বসিয়ে রেখে আনিসুর ও আমিনুলকে ডেকে নিয়ে আসে। পরে সবাই অটোরিক্সা নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করে সুমনের শ্বশুর বাড়ির পাশে নিয়ে যায়। ভোর ৪টার দিকে চালক মামুনকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে নবগ্রাম পুলিশ বক্সের কাছাকাছি রাস্তার ঢালে মামুনের মৃতদেহ ফেলে রেখে টাঙ্গাইলে চলে আসে। টাঙ্গাইলে পৌঁছে তার পূর্ব পরিচিত সিএনজি অটোরিক্সা চোরাই চক্রের সদস্য টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিন কলেজ পাড়ার মৃত আবু হানিফের ছেলে দুলাল মিয়া (৪৭), নিকট সিএনজি বিক্রি করে দেয়। দুলাল চোরাই সিএনজিটি নাগরপুর উপজেলার বনগ্রাামের সাহেব আলী মোল্লার ছেলে সুমন মিয়ার (২৩) বাড়িতে রাখতে বলে। সেখান থেকে চোরাই সিএনজি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। এ হত্যাকান্ডে জড়িত মুল আসামী সুমন ওরফে পাইলট, অপু এবং আমিনুল পলাতক রয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।


  • কাগজটুয়েন্টিফোর বিডি ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!