কাগজ২৪ — অবিচল সত্যের পথে

রাস্তায় ফেলে রাখা বৃদ্ধা রহিমাকে উদ্ধার করলেন ‘পারি ফাউন্ডেশন’

অনলাইন ডেক্স । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম

ঢাকায় বাড়ি রহিমা বেগমের। পুত্রবধু তাকে রাতের অন্ধকারে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর রোডের আন্ডারপাসে ফেলে রেখে যায়। ‘পারি ফাউন্ডেশন’ রহিমা বেগমকে টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার করে এনে পরম মমতায় হস্তান্তর করেন কল্যাণপুরের ‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার হোম’ বৃদ্ধাশ্রমে।

সমাজের অন্যান্য হতভাগা মানুষের চাইতে ৬০ বছর বয়স্কা রহিমা বেগমের জীবনটা একটু বেশিই করুন। খুব অসুস্থ থাকার পরও রহিমা বেগমের কাছ থেকে অস্পষ্টভাবে জানা যায় তার বাড়ি ঢাকায়। পুত্র মারা যাওয়ার কিছু দিন পরেই তার পুত্রবধু রাতের অন্ধকারে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা টাঙ্গাইল হাইওয়ে রোডের মির্জাপুর আন্ডারপাসের নিচে ফেলে রেখে যায়।

পুত্রবধুর এ রকম অমানবিক আচরণে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে বয়স্কা রহিমা বেগম। রাস্তার ধারেই চলতে থাকে তার জীবন। কোন চলন্ত পথিকের মানবিকতায় রুটি কলা যে যা দেয় তা খেয়েই রাস্তার ধারে রোদ বৃষ্টির নিচে দিন রাত পড়ে থাকে বয়স্কা এই মা। শরীরটা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে থাকে রহিমা বেগমের। শরীরের মাংসগুলো শুকিয়ে চামড়াগুলো অনেকটা হাড়ের সাথে মিশে যায়।

"বৃদ্ধ শাশুড়ীকে রাস্তায় ফেলে গেল পুত্রবধু" শিরোনামে চলতি মাসে একটি নিউজ আসে দৈনিক মানব জমিন পত্রিকায়। নিউজটি নজরে আসে "আইডিয়াল মির্জাপুর টাঙ্গাইল" ফেসবুক গ্রুপের সদস্যদের। আইডিয়াল মির্জাপুর গ্রুপের সদস্যরা রহিমা বেগমকে রাস্তা থেকে তুলে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কুমুদিনী হসপিটালে নিয়ে যায়। কুমুদিনী হসপিটালে তাকে ভর্তি না করালে তারা তাকে নিয়ে যায় মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানেও তাকে ভর্তি না করালে রহিমা বেগমকে নিয়ে যাওয়া হয় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া বৃদ্ধাশ্রমে। খুব অসুস্থ এবং ময়লাযুক্ত শরীর থাকায় হতভাগা রহিমা বেগমকে রাখতে চায়নি বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ।

হাল ছাড়েনি মির্জাপুর ফেসবুক গ্রুপের অদম্য সদস্যরা। সর্বশেষ তারা ঢাকায় ‘পারি ফাউন্ডেশন’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে হতভাগা রহিমা বেগমের বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং মানবিক বিবেচনায় পারি ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ সাথে সাথেই যোগাযোগ করে ঢাকা কল্যাণপুরে অবস্থিত ‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার হোম’ নামক বৃদ্ধাশ্রমে।

পারি ফাউন্ডেশন এবং চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার হোমের লোকজন যৌথভাবে গতকাল ভোরে (২১ জুলাই) ঢাকা থেকে একটি এম্বুলেন্স নিয়ে হতভাগা রহিমা বেগমকে খুঁজে পায় দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের নবনির্মিত মসজিদের পাশে বালু মাটির উপরে।

সেখান থেকে রহিমা বেগমকে তুলে নিয়ে মসজিদের পাশের টিউবওয়েলে প্রথমে তাকে শ্যম্পু সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হয় চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার হোমে। এখানেই চলছে রহিমা বেগমের উন্নত চিকিৎসা।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন- https://bit.ly/2LYpT2Y

তথ্য ও ভিডিও সংগ্রহ-পারি ফাউন্ডেশন।

আরও পড়ুন

অন্যান্য

ইতিহাসের এই দিনে: ৭ জুন

অনলাইন ডেস্ক । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম আজ ৭ জুন, ২০২৬, রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ১৫৮তম (অধিবর্ষে ১৫৯তম) দিন। একনজর…

অন্যান্য

ইতিহাসের এই দিনে: ৬ জুন

অনলাইন ডেস্ক । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম আজ ৬ জুন, ২০২৬, শনিবার। ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ১৫৭তম (অধিবর্ষে ১৫৮তম) দিন। একনজর…

অন্যান্য

ইতিহাসের এই দিনে: ৫ জুন

অনলাইন ডেস্ক । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম আজ ৫ জুন, ২০১৭, শুক্রবার। ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ১৫৬তম (অধিবর্ষে ১৫৭তম) দিন। একন…