টাঙ্গাইলের মগড়ায় খাল দখল করে সরকারি ভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মান॥ টাকা ও পেশী শক্তিতে দখল হস্তান্তর॥

 

 

মো. রাশেদ খান মেনন (রাসেল), টাঙ্গাইল, বিশেষ প্রতিনিধি । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম
টাঙ্গাইল সদর উপজেরার মগড়া ইউনিয়নের আয়নাপুর বাজারের পাশ দিয়ে ধলেশ্বরী নদীর শাখা ও খাল প্রবাহিত হয়েছে। নদীর একাংশ ও খালের কিছু অংশে সরকারি জায়গায় মাটি ভরাট করে ও আরসিসি পিলারের মাধ্যমে স্থাপনা নির্মান করে অবৈধভাবে দিন দিন দখল করে চলেছে কিছু লোকজন। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দখল করা জায়গা হাতবদল হচ্ছে প্রায়ই। কিছু ক্ষেত্রে দলীয় ও পেশীশক্তির প্রভাব খাটিয়ে একজন দখল করে নিচ্ছে আরেকজনের দখল করা সরকারি খাস জায়গা। এলাকার সাধারন লোকজন আশংকা করছে সরকারি জায়গা ভোগ দখল মালিকানা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় যেকোন সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে সরকারি ভূমি, নদী ও খাল দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মগড়া ইউনিয়নের আয়নাপুর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালটির পাশে সরকারি ভূমিতে রয়েছে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা। কেউ কেউ সরকারি ওই জায়গায় টিনের ছাপড়া দিয়ে দোকান ঘর বানিয়ে ব্যবসা বানিজ্য করছে আবার কেউ কেউ আরসিসি পিলার করে ফাউন্ডেশন দিয়ে দোকান বানিয়ে নিজেরা ব্যবহার করছে নয়তো ভাড়া দিয়ে আর্থিক সুবিধা ভোগ করছে। ওই এলাকার বাসিন্দা এলাহী মাষ্টার বলেন অন্যান্যদের মত ছামাদ আলী নদীর পারের সরকারী খাস জায়গায় আধা শতাংশ দোকান করে ভোগ দখল করত। প্রায় ত্রিশ বছর আগে বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ছাপড়া ঘর’সহ আমি ওই জায়গার দখল বুঝে নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস থেকে বিধি বিধান মেনে সমিতির আওতাভূক্ত হয়ে মিটার সহ বিদ্যৎ লাইনের সংযোগ এনে ভোগ করছি। হিসাব নং ৩২৫-৮০১০, সমিতির সদস্য পদ নং ৪৩৫৯৪-১১ তারিখঃ ০৫-০২-১৯৮০। কয়েকমাস যাবৎ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মকিম উদ্দিন, ভিতর শিমুল এলাকার বাসিন্দা মোঃ আজিজুল হক, মোঃ আব্দুল হামিদ ও মিনহাজ উদ্দিন আমার ভোগকৃত আধা শতাংশ সরকারি খাস জমি বেদখলের পায়তারা করছে। ডিসেম্বর মাসের ২৭ তারিখে আমার দোকাঘর ভেঙ্গে উক্ত স্থানে জোড়পূর্বক ঘর দিয়া দখল করার চেষ্টা করছিল। দেখেন দোকানের সামনে এক ট্রাক মাটি রাখছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদরের এসিল্যান্ড অফিসে ও থানায় অভিযোগ দেয়ার পর তাদের হস্তক্ষেপে ঘর দখলের কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকেও জানিয়েছি। আমি ও আমার ছেলে ফজলুল হক এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়ার কারনে বর্তমানে হুমকির মধ্যে আছি। আমি গরীব মানুষ দোকানদারী কইরা খাইতেছিলাম। সরকারি জায়গা সরকার যদি নিয়া যায় তাহলে দিয়া দিমু। কিন্তু অন্য কাউকে জোড় কইরা আমার ভোগ করা জায়গা দখল করতে দিমুনা।
এ বিষয়ে এলাহী মাষ্টারের জায়গা দখলের চেষ্টাকারী কয়েকজনের সাথে কথা হয়। আজিজুল হক ও মকিম উদ্দিনের ছেলে রুহুল বলেন, এলাহী মাষ্টারের দখলে থাকা যে জায়গাটি সে খাস দাবী করছে, তা আমরা সোহাগী বিবির কাছ থেকে রেজিষ্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ২০১৩ সালে ক্রয় করেছি। সরকারী খাস জায়গা বিক্রি হলো কিভাবে জানতে চাইলে তারা প্রসঙ্গটি এরিয়ে যায়। তাদের স্বপক্ষে কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। একটি মামলার কাগজে দেখা যায়, সোহাগী বিবি ২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে উক্ত এলাহী মাষ্টার গং কে বিবাদী করে ওই জায়গা দাবী করে মামলা দায়ের করে। সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করায় দীর্ঘদিন পর বাদীর অুপস্থিতিতে ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারী মোকদ্দমাটি খারিজ হয়ে যায়। অসহায় এলাহী মাস্টারের দোকানের উত্তর পাশে ছানোয়ারের ভাত, রুটি ও মিষ্টির দোকান আর দক্ষিন পাশে মোশারফের ফার্মেসী এছাড়াও অন্যান্য লোকজন সরকারি খাস জায়গা ভোগ দখল করছে। এছাড়াও এলাকার প্রভাবশালী দখলদারদের কেউ কেউ একাধারে কয়েকটি করে দোকানের মালিক হিসেবে সরকারি জায়গায় দোকান তৈরী করে, সেই দোকান ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় করছে। দোকানগুলো অবৈধভাবে গড়ে ওঠায় সরকার একদিকে সেখানকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে নদীর অংশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসিল্যান্ড সুখময় সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। আমি সরেজমিনে উক্ত এলাকায় গিয়ে বিষয়টি দেখব। যদি অবৈধভাবে কোন কিছু হয়ে থাকে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিব। সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায় এলাহী মাষ্টারের ওই দোকানসহ বেশকিছু জায়গা খাস জমির আওতায় রয়েছে। মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলামের সাথে কথা বলতে তার বাড়িতে গিয়ে তার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করি। তিনি এ বিষয়ে প্রথমে কোন মতামত ব্যক্ত করতে না চাইলেও পরে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি। কিছুদিনের মধ্যেই মীমাংসার চেষ্টা করব। এলাকাবাসীরা জানায় তিনি এলেঙ্গাতে বাসা করেছেন। প্রায় সময় এলাকার বাইরে ওখানেই থাকেন। ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আজমত আলী বলেন মগড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত আয়নাপুর বাজারটি পাশে ক্ষিদির ও আয়নাপুর মৌজায়। কিছু অংশ হাট পেরিফেরির জায়গা আর কিছু অংশ সরকারি খাস জায়গা রয়েছে। আমরা চাই এরাকার শান্তি রক্ষার্থে সবাই মিলেমিশে থাকুক। তবে কেউ অন্যায় করলে তার শাস্তি পাওয়া উচিত।
ওই বাজারের চায়ের দোকানদার শাজাহান, সাজন ও চায়ের দোকানে আসা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এলাকার গরীব মানুষেরা সরকারি খাস জায়গায় অনেক বছর ধরেই কর্ম করে খাচ্ছে। এলাকার এই দোকানগুলোতে দিনদিন বেচাবিক্রি বাড়ছে, ব্যবসা ভাল হচ্ছে। তাই অনেকেই টাকা দিয়ে একজন আরেকজনের কাছ থেকে জায়গার মালিকানা নিজের নামে করে নিচ্ছে। কেউ কেউ দখলের চেষ্টা করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এলাকায় যেকোন সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

Tangail er Mogra River and Canel NEWS (R.K.Menon) 28.01 (3)


কাগজ টুয়েন্টিফোর বিডি ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!