মাভাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য এবিএম শহিদুল ইসলাম
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক এবিএম শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে আগামী ৪ বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এর মধ্যে তার অবসরের বয়স হয়ে গেলে সেই তারিখটিই কার্যকর হবে। তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধাও ভোগ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।
শহিদুল ইসলামের শিক্ষাজীবন শুরু হয় মেধার উজ্জ্বল স্বাক্ষর দিয়ে। ১৯৭৯ সালে ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ স্থান অধিকার করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্য লাভ করেন।
১৯৮৬ সালে সম্মান ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অর্জন করে তিনি নিজ বিভাগেই প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি একজন কমনওয়েলথ স্কলার। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব স্ট্রাথক্লাইড থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী এই শিক্ষক শিক্ষকতা জীবনে পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ ৪০ বছর।
গবেষণাক্ষেত্রেও তার অবদান অনবদ্য। বিশ্বখ্যাত মার্কেটিং গুরু ফিলিপ কোটলারের সর্বশেষ বই ‘এশেনশিয়ালস অব মডার্ন মার্কেটিং’-এ তার লেখা কেস স্টাডি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদের জন্য বিরল সম্মান।
দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় জার্নালে তার ৪০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। এর আগে তিনি সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষকতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন।

