গাজী নজরুলকে ঘিরে বিতর্কে বিব্রত জামায়াত

নারী কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কে অস্বস্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত আচরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক সংগঠনের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়েও পর্যালোচনা চলছে।

দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিষয়টিকে কেবল ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে না দেখে এর আইনগত, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক—সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এমপি ও দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব খাটানো বা অন্য কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং পৃথক সাংগঠনিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি। সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলা বা আরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা সময় হলেই জানতে পারবেন।”

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, তদন্তে যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম বা অন্য কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ জন্য আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে।

জামায়াতের রাজনীতিতে এ ধরনের বিতর্ক প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন। ঘটনায় মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “অপরাধ ও অন্যায়ের প্রশ্নে জামায়াত কখনো কাউকে ছাড় দেয় না, প্রয়োজনে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি আমিরও হন।”

দলীয় সূত্র আরও জানায়, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।

সাবেক এমপি গোলাম রেজার বিস্ফোরক দাবি

এদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক হুইপ ও একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ এইচ এম গোলাম রেজা গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। ইয়াছিন আরাফাত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে যোগ দেওয়ার আগে গাজী নজরুল শিক্ষকতা করলেও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি একবার তাঁর বাড়িতে ডাকাতির সময় গাজী নজরুলকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

তৃতীয় দিনের মতো উত্তাল শ্যামনগর

অন্যদিকে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও বংশীপুরে পৃথক কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। কর্মসূচিতে গাজী নজরুলের কুশপুতুল দাহ এবং তাঁর ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় তিনি শ্যামনগরে ফিরলে তাঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!