মহানগর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রাজপথের পরীক্ষিতরাই অগ্রাধিকার পাক—সংগ্রাম, ত্যাগ আর আন্দোলনের মাঠেই প্রকৃত নেতৃত্বের জন্ম হয়।

অনলাইন ডেক্স । কাগজটোয়েন্টিফোরবিডিডটকম

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখা, হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে দেখতে চায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা—ত্যাগ, সাহস, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হোক, যা সংগঠনের গতিশীলতা আরও বাড়াবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সাবেক ছাত্রনেতা, রাজপথের পরীক্ষিত লড়াকু সংগঠক এবং যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা নেতাদের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, যারা দুঃসময়ে সংগঠনের পাশে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, ত্যাগ ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করেছেন—নতুন কমিটি গঠনে তাদেরই যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।
সভাপতি পদে আলোচনায়:
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মহানগর দক্ষিণের বর্তমান সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘিরে।দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, তিনি শুধু মহানগর দক্ষিণ নয়, কেন্দ্রীয় যুবদলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। অনেকেই মনে করছেন, তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও যেতে পারেন।
সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন দক্ষিণ যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ গাফফার, যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না এবং বর্তমান আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজলও সভাপতি পদে আলোচিত নাম। দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের একটি বড় অংশ।

ফয়সাল আহমেদ সজল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। ফ্যাসিস্ট শাসনের ১৭টি বছর এবং জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, তবে অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। তবে দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে সর্বোচ্চ। দল যেখানেই মূল্যায়ন করবে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করতে আমি প্রস্তুত।”

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায়:
সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সাবা করিম লাকি, ফয়সাল হেদায়েত সৈকত পণ্ডিত, রাফিজুল হাই রাফিজ, মো. জিন্নাহ, আসাদুজ্জামান আসলাম, আসিফুর রহমান বিপ্লব এবং পল্টন থানার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিল মৃধা।

সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তাদের অনেককেই সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রাখছেন নেতাকর্মীরা।

যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাদের মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছেন।

উত্তর যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায়:
সভাপতি পদে বর্তমান সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুমের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান রাজ, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু এবং মনিরুল ইসলাম স্বপন।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায়:
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের রামপুরা থানার আহ্বায়ক কামাল আহমেদ দুলু। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল, যিনি দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফিরে এসেছেন, তার নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল, আইয়ুব আলী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস আহমেদের নামও শোনা যাচ্ছে।

৩৩ মাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি:
২০২৩ সালের ৯ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণে খন্দকার এনামুল হক এনামকে আহ্বায়ক এবং রবিউল ইসলাম নয়নকে সদস্যসচিব করা হয়।

পাশাপাশি এম এ গাফফার, ইকবাল হোসেন ও মুকিত হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল।

তবে প্রায় ৩৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, উত্তর ও দক্ষিণ দুই ইউনিটেই অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো গেলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে।

তৃণমূলের প্রত্যাশা:
এই বক্তব্যে তৃণমূলের মূল বার্তাটা খুব স্পষ্ট—নেতৃত্ব বাছাইয়ে এবার ত্যাগ, যোগ্যতা ও আন্দোলনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি উঠেছে। এটাকে আরও পরিশীলিত ও সংবাদধর্মীভাবে এভাবে বলা যায়:

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। তাদের জোর দাবি, এবার যেন কোনো ধরনের ‘পকেট কমিটি’ না হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, কর্মীবান্ধব, সাহসী এবং বিতর্কমুক্ত নেতাদেরই মূল্যায়ন করা হয়।

তৃণমূলের ভাষ্য, সামনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবদলের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন, যারা শুধু পদ অলংকৃত করার জন্য নন; বরং দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সংগঠনের পতাকা সমুন্নত রেখেছেন এবং কর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্ভাব্য খসড়া তালিকাও ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারণী মহলে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সবুজ সংকেত মিললেই যেকোনো সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হতে পারে, এমনটাই সংশ্লিষ্ট সূত্রের ইঙ্গিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!